জোড়াফুল প্রতীক কার ! ”ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দুর কাছে বেচে দিয়েছেন” : কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক (TMC Party Symbol) শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে বৈঠক হয়ে গেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। শনিবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) শিবির এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির – দুই পক্ষের সঙ্গেই বৈঠক করে কমিশন। সেই বৈঠক শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র নিশানা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, উনি বিজেপির দালাল।
নির্বাচন কমিশনের বৈঠক প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমেই জানান, ”একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেটা দেওয়ার পর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা নেওয়া হবে। তবে আজ আমাদের কাছে নতুন কোনও নথি চাওয়া হয়নি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকেও তাঁদের কাছে কোনও নথি আসেনি। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় বক্তব্য রেখেছি।” অনুমান করা হচ্ছে, জোড়াফুল প্রতীকটিই আপাতত ফ্রিজ করে দিতে পারে কমিশন এবং উপনির্বাচনে লড়তে দু-পক্ষকে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দিতে পারে।
সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে সুর চড়ান কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, ”ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলকে সম্পত্তি মনে করে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বেচে দিয়েছেন। বিজেপির দালাল হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ও তো ধর্ষণে অভিযুক্ত, তাঁর কোনও কথার গুরুত্ব নেই।” কল্যাণের আরও সংযোজন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৈরি করেছিলেন। নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন, তা থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। যাঁরা এখন বিদ্রোহ করেছেন, কয়েক মাস আগে মমতার আঁকা ওই প্রতীকেই নির্বাচনেই জয়ী হন তাঁরা। তাই তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।’’
এদিকে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা ছিল, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস একটি পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়, কারুর বাপের সম্পত্তি নয়, ব্যক্তিগত মালিকানা নেই এই পার্টির। এটি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পার্টি। ‘মমতা যা বলবেন তাই সই’ – এসব চলবে না।’’ স্বৈরাচারী মর্জির বদলে সাংবিধানিক তথ্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যের অবস্থান ঠিক করার মতো খামখেয়ালি রাজনীতি বাংলায় আর চলবে না।

